Sunday, 29 July 2018

বাঙালি চরিতঃ ভূত-অদ্ভুত

আমার বাঙালি চরিত

চলুন আমরা সবাই ভালো হয়ে যাই। আসুন আমরা অন্যকে দোষ না দিয়ে নিজেকে দোষ দিই। "দেশ আমার দোষ আমার"। আসলেই কি তাই? অন্ন্যের দোষ কেন আমি আমার ঘাড়ে নিব?  

# চামচামিকে অনেকে শিল্পের লেভেলে নিয়ে গেছে। আগে কেউ পা লেহন করত এখন +ছা ও লেহন করে! 

# এক তেলবাজ আরেক তেলবাজকে দেখতে পারে না। 


# মন্দ ঘটনা না ঘটলে পেপার ভালো চলে না। কথায় আছে Bad news are good news for any newspaper. আমরা বাঙ্গালীরা নিয়মিত সমালোচনা না করলে পেটের ভাত হজম হয় না। এ দুর্নীতি করে ও দুর্নীতি করে। এলাকার কিছু লোকেরা একে অন্যের ছেলে মেয়ের মন্দ নিয়ে কথা বলে অথচ নিজেরটা নিয়ে মাথা ব্যাথা নাই।  

এ বলে বরিশালের লোক খারাপ ও বলে নোয়াখালীর মানুষ খারাপ। লোকে বলে কুমিল্লার মানুষ এই আর বিক্রমপুরের অই ………………………………  ইত্যাদি ইত্যাদি! তো ভাই বলেন   বাংলাদেশের  কোন  কোন বিভাগ বা জেলার লোক ভালো? 

# আমরা অনেকে সুযোগের অভাবে ভদ্রলোক! সুযোগ পেলে রিক্সাওয়ালারাও আমাদের সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করে। বৃষ্টি হলে/ খুব গরমে/ রাতে আপনি রিক্সায় উঠতে হলে বাড়তি টাকা দিতে হবে। আর আপনি মেয়ে হলে তো কোন কথাই নেই!  

# বাঙালি হালাল খাবারের প্রতি সিরিয়াস কিন্তু হালাল ইনকামের দিকে নজর দেয় না। 

# সবাই এখন লাখপতি বা কোটিপতি হতে চায়। সবাই চায়! কিন্তু বেশিরভাগই সৎ পথে চায় না, অল্প সময়ে দু নম্বরই পদ্ধতিতে চায়। এখন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকও প্রশ্ন ফাঁস ব্যবসা করে লাখপতি হতে চায়। 

# বাঙালি পুরুষ তার পুরুষত্ব দেখায় তার বউ পিটিয়ে বা রিক্সাওয়ালাকে মেরে। 

# কেউ পরশ্রীকাতর আবার কেউ পরস্ত্রীকাতর! 

# এদের ঘাড়ে কিছু না পড়া পর্যন্ত এরা সিরিয়াস হয় না। 

# কিছু বাঙালি কাজের থেকে কথা বেশি পছন্দ করে। বাসে বা ট্রেনে অপরিচিত কাউকে বিভিন্ন ব্যক্তিগত প্রশ্ন করতেও দ্বিধা করে না। 

# বাঙালি দাসত্ব পছন্দ করে। একে অন্যের ভালোটা পছন্দ করে না।

# কেউ কেউ ফিলিস্তিনি মুসলিমদের অত্যাচার দেখে আহা-উঁহু করে কিন্তু আবার নিজের কাজের লোককে অত্যাচার করে।  

# একে অন্যকে খোঁচা দেয়াতে এরা ওস্তাদ। 

# মানুষ এখন সুশিক্ষিত মানুষের থেকে পাওয়ারফুল/ বড়োলোকদের বেশি সম্মান দেয়। ভদ্র লোকের দাম কম! শক্তের ভক্ত নরমের যম। 

# ঘুষের সমালোচনা করলেও এদের অনেকে ঘুষ খেতে ইচ্ছুক। 

# আমরা তুচ্ছ বিষয় মনে রাখি কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ভুলে যাই। ফরজের থেকে নফল নিয়ে মাতামাতি। 

# দেশে থাকলে এদের হাতি সমান ইগো কিন্তু বাহিরে গেলে এরা যেকোনো কাজ করতে রাজি।

# বাঙালি মানিয়ে নিতে নিতে এখন এমন অবস্থা যে - এখন কিছুই গায়ে লাগে না। সব মেনে নেয়। 

# জেন্ডার বৈসম্মের কথা বলবেন? নারী ক্ষমতার কথা বলবেন? কে পাচ্ছে সমতা? 

# সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগে কি হচ্ছে? কারা নিয়োগ পাচ্ছে? মেধাবি সৎ ভদ্র ছাত্র-ছাত্রীরা কি চাকরি পাচ্ছে?  

# মসজিদ কমিটিতে এখন কাদের দেখেন?  এরা মসজিদ কমিটি চালানোর মত ক্ষমতা আছে। মসজিদ কিন্তু আল্লাহর ঘর। 
সমাজের সর্বাঙ্গে পচন ধরেছে। আর এ ভেঙে পড়া সমাজ কবে সুস্থ হয়ে উঠবে সেটাই বড় প্রশ্ন। 

এক  বাঙালি গুষ্টির (মির জাফর গং) ষড়যন্ত্রের কারণে এই উপমহাদেশে ২০০ বছরের ইংরেজ শাসন-শোষণ করছে আবার এই বীর বাঙ্গালীর কারনেই ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। বঙ্গবন্ধু বাঙালির চরিত্র ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কখনো ‘বীরের জাত’ কখনো আবার ‘পরশ্রীকাতর’ও বলেছেন। সবসময়ই কিছু বাঙালি বিশ্বাসঘাতক ছিল । বাঙালি সর্বদা নিজেদের অস্তিত্ব ভুলে নিজের ক্ষতি করেছে, ভিনদেশিদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য।


0 comments:

Post a comment